Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সিটিজেন চার্টার

 

 

 

 

সিটিজেন চার্টার

 

 

মাদারীপুর পওর বিভাগ দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নসহ অধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ং সম্পন্নতা অর্জনের লক্ষ্যে  নিম্ন  বর্ণিত কাজ সমূহ সম্পাদন করে থাকেঃ-

 

১।       বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিস্কাশন ও সেচ প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন।

২।       বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ/পুনঃ নির্মাণ।

৩।      নদী শাসন/প্রতিরক্ষা মূলক কাজ।

৪।       নদী ও খাল খনন/ পুনঃ খনন।

৫।       জল কাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ/মেরামত।

 

মাদারীপুর পওর বিভাগের কার্য্য পরিধি মাদারীপুর জেলার সবগুলি উপজেলা ও গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার এবং বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার কিয়দংশ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। অত্র বিভাগের অধীনে দুইটি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দপ্তর রহিয়াছে। বিভাগীয় দপ্তরের তিনটি শাখার কার্য্য বিভাজন নিম্নরূপঃ-

 

সাধারণ শাখা

 

 

প্রাক্কলন শাখা

 

হিসাব শাখা

 

১।

চিঠিপত্র গ্রহণ ও প্রেরণ।

 

১।

প্রাক্কলন নিরীক্ষা।

 

১।

ঠিকাদারের বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

২।

ঠিকাদারী তালিকাভূক্তি প্রদান এবং নবায়ন।

 

২।

দরপত্র আহবান এবং গ্রহণ সংক্রান্ত।

 

২।

আর্থিক লেনদেনে আইনি সহায়তা।

 

৩।

বাপাউবোর অধিগ্রহণকৃত অব্যবহৃত জমি লীজ প্রদান এবং নবায়ন।

 

৩।

ঠিকাদারের সংগে চূক্তিপত্র সম্পাদন।

 

৩।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি প্রদানে সহায়তা।

৪।

প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সমূহ।

 

৪।

প্রকৌশল কর্মসূচী সংক্রান্ত যাবতীয় পত্র যোগাযোগ।

 

৪।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন সংক্রান্ত সহায়তা

৫।

বিভাগীয় দপ্তরের প্রশাসন সংক্রান্ত যাবতীয় রেকড-পত্র সংরক্ষণ ইত্যাদি।

 

৫।

প্রকৌশল কর্মসূচীর আইনি সহায়তা।

 

৫।

অডিট আপত্তি নিস্পত্তিতে সহায়তা প্রদান ইত্যাদি

 

 

 

৬।

প্রকল্পের অগ্রগতি, বাজেট প্রণয়ন, নতুন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন ইত্যাদি।

 

৬।

পৌর ও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানে সহায়তা করা।

 

 

 

৭।

প্রাক্কলন শাখার যাবতীয় রেকড-পত্র সংরক্ষণ ইত্যাদি।

 

৭।

হিসাব শাখার যাবতীয় রেকড-পত্র সংরক্ষণ ইত্যাদি

 

১.       প্রকল্প প্রণয়নঃ

          স্থানীয় জনগনের মতামত, চাহিদা বা প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আলোচনার ভিত্তিতে ‘‘বটম আপ’’ পদ্ধতিতে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়, অর্থাৎ উপর থেকে (টপ ডাউন) প্রকল্প চাপিয়ে দেয়া হয় না। প্রাথমিক অনুসন্ধান, যাচাই-বাছাইয়ের পর বিস্তারিত সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (Development Project Proposal/Proforma-DPP)বা ডিপিপি প্রস্ত্তত করা হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের আর্থিক সীমা অনুসারে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন বা একনেক কর্তৃক ডিপিপি অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বা এডিপি প্রণয়ন করা হয়। অতঃপর প্রচলিত সরকারী বিধি বিধান, নীতি ও আইন অনুসারে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

 

২.০     বাপাউবো’র কার্যাবলীঃ

            বাপাউবো আইন ২০০০ অনুসারে বাপাউবো’র সার্বিক কার্যাবলী পরিচালিত হয়। জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯ ও জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা-২০০৪ এর আলোকে এবং অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে বোর্ড নিম্মবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালন, রক্ষনাবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে। বাপাউবো’র সার্বিক কার্যাবলী প্রধানত দুই প্রকার, যথা কাঠামোগত (Structural)এবং অ-কাঠামোগত (non-structural) ও সহায়ক কার্যাবলী , যা নিম্মরুপঃ

 

২.১      কাঠামোগত কার্যাবলীঃ

(ক)   নদী ও নদী অববাহিকা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিস্কাশন, সেচ ও খরা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জলাধার, ব্যারেজ, বাঁধ, রেগুলেটর বা অন্য যে কোন অবকাঠামো নির্মাণ;

 

(খ)   সেচ, মৎস চাষ, নৌ-পবিহন, বনায়ন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পানি প্রবাহের উন্নয়ন কিংবা পানি প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য জলপথ, খাল বিল ইত্যাদি পুনঃখনন;

 

       (গ)        ভূমি সংরক্ষণ, ভূমি পরিবৃদ্ধি ও পুনরুদ্ধার এবং নদীর মোহনা নিয়ন্ত্রণ;

 

(ঘ)   তীর সংরক্ষণ ও নদী ভাঙ্গন হতে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে শহর, বাজার, হাট এবং ঐতিহাসিক ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ সংরক্ষণ;

 

       (ঙ)        উপকুলীয় বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ;

 

       (চ)        লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ রোধ এবং মরুকরণ প্রশমন;

 

       (ছ)        সেচ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পানীয় জল আহরণের লক্ষ্যে বৃষ্টির পানি ধারণ;

 

২.২       অ-কাঠামোগত ও সহায়ক কার্যাবলীঃ

(জ)       বন্যা ও খরা পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ;

 

(ঝ)   পানিবিজ্ঞান সম্পর্কিত অনুসন্ধান কার্য পরিচালনা এবং এতদসম্পর্কিত তথ্য ও উপাত্ত গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ;

 

(ঞ)  পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ননের লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগীতায় এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বোর্ডের  সৃষ্ট অবকাঠামোভুক্ত নিজস্ব জমিতে বনায়ন, মৎস্য চাষ কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং বাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণ;

 

       (ট)        বোর্ডের কার্যাবলীর উপর মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা;

 

(ঠ)   বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফল সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের সংগঠিতকরণ, প্রকল্পে তাঁদের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করণ, প্রকল্প পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ (পওর) এবং

 

       (ড)        প্রকল্প ব্যয় পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিভিন্ন কলাকৌশল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উদ্ভাবন, বাস্তবায়ন ও পরিচালন।

 

 

৩.০        বন্যা পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণঃ

বাংলাদেশে বন্যা একটি বড় সমস্যা। ইহাতে জন জীবন বিপর্যস্ত হওয়া সহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা এবং বন্যা মোকাবেলায় যথাযথ প্রস্ত্ততি গ্রহণের জন্য পাউবোতে ৪৮ ঘন্টা এবং ৭২ ঘন্টার আগাম বন্যা পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদী বন্যা ও খরা পূর্বাভাষ প্রদানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মৌসুমী বন্যা পূর্বাভাষ প্রদানে কারিগরী সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে বাপাউবো বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

 

 

  1. ৪.০        দূর্যোগ ব্যবস্থাপনাঃ
  2. বাপাউবো দেশের ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, বন্যা এবং এসব দূর্যোগ মোকাবেলা, দূর্যোগ জনিত ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত। এজন্য সরকারী বিধি বিধান যেমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্থায়ী আদেশ (Standing Order for Disaster - SoD)অনুসরণ করা হয়। বন্যার সময় বাপাউবো’র কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ সার্বক্ষণিক নজরদারীতে নিয়োজিত থেকে বন্যা জনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। উপকুলীয় বাঁধ ও ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস থেকে জনজীবন ও সহায়-সম্পদ রক্ষা করছে। বাপাউবো’র বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে উপকুলীয় এলাকায় ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। নদী ভাঙ্গন আরেকটি ভয়াবহ দূর্যোগ, যাতে বিপুল জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং হচ্ছে। এ বিষয়ে পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সম্পুরক সেচ সুবিধার আওতায় খরা জনিত দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরী করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠী খরা মোকাবেলা করছে।

 

৫.০      ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন ও বসতী স্থাপনঃ

নদী এবং সমূদ্র থেকে ভূমি উদ্ধার করে যথাযথ কাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের পর ঐ সব জমিতে ভূমিহীন লোকদের সংগঠিত করে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম চলমান আছে। এটি আন্তঃসংস্থা/মন্ত্রণালয় সমন্বিত কর্মসূচী। এ পর্যন্ত সমূদ্র থেকে প্রায় ১.১০২ লক্ষ হেঃ ভূমি উদ্ধার করে তাতে ভূমিহীন লোকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সংগঠিত বসতি স্থাপন করা হয়েছে।